জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) প্রতিনিধি বিশেষ করে সুপার থ্রি প্রশাসনকে চাপ দিয়ে জকসুর কাজকে বেগবান করতে ব্যার্থ হয়েছেন বলে ক্ষমা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টাটাস দেন জকসুর নির্বাচিত সতন্ত্র সদস্য জাহিদ হাসান নীল।
শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্টাটাসে তিনি একথা বলেন।
জাহিদ বলেন, জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস মিলে এখনও প্রশাসনকে চাপ দিয়ে জকসুর ফান্ড নিতে ব্যর্থ। অনেকেই আবার বলবেন কাজ তো হচ্ছে কিছু। ভাই, এসব শিবিরের টাকায় করা কাজ। জকসুর ব্যানারে এসব কাজ করলে নিশ্চয়ই অন্য প্যানেলের যারা তারা আগ্রহ প্রকাশ করবেনা। এইটায় স্বাভাবিক। জকসুর প্রধান কাজ হওয়া উচিত ছিল স্টুডেন্ট ম্যান্ডেট নিয়ে প্রশাসনের সাথে ডিবেট করা, দাবি আদায় করে নেওয়া, ট্রেজারারের থেকে সমস্ত খাত খোলাসা করানো, ইত্যাদি।
২১ জনের মধ্যে টপ থ্রীতে যদি একজনও একই প্যানেলের বাইরের থাকতো, আজকে জকসুর চেহারা এমন হতো না।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, আমার কাছে এখন অবধি মনে হচ্ছে জকসু খুব বাজে ভাবে রান করছে। আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে কোনো প্যানেলের প্রতিনিধিগণ জিজ্ঞাসা অবধি করেন নাই যে আমরা এরকম একটা বিবৃতি দিচ্ছি। এছাড়াও শুরু থেকেই জকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমেও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রতিনিধিগণের নানাবিধ অসংলগ্নতা দেখা যায়। বিভিন্ন সময়ে আমি জকসু মেম্বারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও বলি যে সবাইকে অন্তত জানায়ে কোনো কাজ করা উচিত। কিছু সময়ে তারা জানানোর প্রয়োজন বোধ করেন, কিছু সময়ে করেন না। কেন করেন না, সেওটাও তারাই ভালো জানেন।
সক্রিয় অনেক নেতা নির্বাচিত হয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা রাখছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যদিকে কিছু সময়ে সবাইকে একসাথে ডাকা হলেও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের তাকরিম আহমেদ ছাড়া আর কেউ আসেন নাই কোনোদিন এবং জবি প্রশাসন এখন অবধি জুকসুকে কোনোভাবেই রান করতে দিচ্ছে না। তাতে ভিপি, জিএস এবং এজিএস এর স্ট্রং স্টেপ আমি দেখিনাই। তারা প্রশাসনের সাথে কোনো আলাপে গেলেও নত হয়ে থাকেন। মাসুদ রানা ভাই নির্বাচনের আগেও একজন দারুন ভয়েসের লিডার ছিলেন, কিন্তু জকসু পরবর্তীতে ভাইকেও অনেক নত হয়ে থাকতে দেখেছি।
আরও পড়ুন:শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী পুরস্কার পেলেন খালেদা জিয়াসহ ৬ জন নারী
এছাড়াও সবথেকে আক্ষেপের ব্যাপার উল্লেখ করে জাহিদ জানান, জানিনা, জকসু আদৌও ঠিকভাবে শেষ অবধি রান করতে পারবে কিনা অথবা প্রশাসন টপ থ্রী পোস্টের প্রতিনিধিদের কনভিন্স করে বাকিদের চুপ রাখবেন কিনা, অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠন গুলো এসবকিছুর পরেও ছেড়ে দিবেন কিনা, শুধু এইটুকু জানি আমি জাহিদ হাসান একজন সদস্য হিসেবে যা যা করা সম্ভব করছি, করবো ইন শা আল্লাহ। হয়তো অর্থের কারনে অনেক কাজ করতে পারছিনা। যদি প্রশাসন জকসুর জন্য আলাদা ফান্ডিং করে দেন বা বাজেটের আলাদা খাত করে দেন, আমি আমার জায়গা থেকে অনেক কাজই করতে চাই যেসব আমার ব্যক্তিগত ইশতেহারে ছিল।
আমাকে ক্ষমা কইরেন!
উল্লেখ্য গত ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশেষ কোন কাজ করতে না পারা এবং ইশতেহার ও মৌখিকভাবে করা প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তবতার মিল না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী এম এইচ বি সুমন বলেন, নির্বাচনের আগে প্রযুক্তিগত উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা হয়নি। পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা সেবাগুলোও প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি, বিশেষ করে টেলিটক বাংলাদেশ সংযোগের গতির উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়াও মেডিকেল সেন্টারে উন্নয়ন, অ্যাম্বুলেন্স, আবাসন সহায়তা, খাবারের মান উন্নয়নসহ নানা পরিকল্পনার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। বরং নির্বাচনের পর প্রতিনিধিদের অন্য রাজনৈতিক কার্যক্রমে বেশি সময় দিতে দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
2 thoughts on "জকসুর সুপার থ্রি কে ব্যর্থ বলে ক্ষমা প্রার্থনা সদস্য জাহিদের"
Comments are closed.