শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ ও পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে একগুচ্ছ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সেমিনার ও পাঠাগার সম্পাদক মোঃ রিয়াসাল রাকিব। তার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে যেমন ফিরছে স্বস্তি, তেমনি দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে কর্মচারীদের। নানামুখী এসব ইতিবাচক উদ্যোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন এই জবি ছাত্রদল নেতা।
জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক জ্ঞানচর্চা ও চাকরির প্রস্তুতির জন্য লাইব্রেরিতে এখন থেকে নিয়মিত ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকল হয়ে থাকা পানির ফিল্টারগুলো মেরামত করে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রেক্ষিতে পড়ার টেবিলে ডিভাইডার দেওয়ার বাজেট ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে, যার কাজ চলতি মাসের মধ্যেই শেষ হবে। একইসাথে আসন সংকট নিরসনে এই মাসেই সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে আরও কিছু নতুন চেয়ার ও টেবিল যুক্ত করা হচ্ছে।
লাইব্রেরির কাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় আক্ষেপেরও অবসান ঘটিয়েছেন রাকিব। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের দীর্ঘ ১০ মাসের ওভারটাইমের বকেয়া বেতন আটকে ছিল। জকসু পাঠাগার সম্পাদকের প্রায় দুই মাসের একাগ্র প্রচেষ্টায় চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাদের সেই বকেয়া টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মচারীদের এই বকেয়া পরিশোধের পরপরই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী সেন্ট্রাল লাইব্রেরি রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার কাজটিও সম্পূর্ণ করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জকসু নেতার এমন শিক্ষার্থীবান্ধব ও মানবিক উদ্যোগে ক্যাম্পাসে বইছে প্রশংসার ঝড়। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে নিয়মিত পড়তে আসা রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব খান বলেন, “লাইব্রেরিতে আসন সংকট আর পড়ার টেবিলে ডিভাইডার না থাকায় মনোযোগ দিয়ে পড়তে আমাদের বেশ সমস্যা হতো। রাকিব ভাই যেভাবে দ্রুততম সময়ে উদ্যোগ নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এছাড়া রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা রাখার সিদ্ধান্তটি চাকরিপ্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনেক বড় সহায়ক হবে।”
আরেক জবি শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, “নেতারা যে চাইলেই আন্তরিকতার সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারেন, রিয়াসাল রাকিব ভাই তার বড় প্রমাণ। কর্মচারীদের ১০ মাসের বকেয়া বেতন আদায় করে দিয়ে তিনি যে দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা আমাদের মুগ্ধ করেছে। লাইব্রেরির বর্তমান পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো এবং পড়াশোনার অনুকূল।”
ছাত্রনেতাদের এমন গঠনমূলক কাজ অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।