ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এক প্রার্থীকে ঘিরে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই জটিলতায় জোটের অন্যতম দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন হারানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হতেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টার প্রায় ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উভয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে জোটের জন্য নির্ধারিত ১৩টি আসনের একটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে কেউ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিধান সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
জানা গেছে, জামায়াত জোটের প্রার্থী মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক থেকে মাত্র চার মাস আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পদত্যাগ করেছেন। অথচ আইন অনুযায়ী প্রার্থী হওয়ার জন্য অন্তত ৩৬ মাস বা তিন বছর সময় পার হওয়া আবশ্যক।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের জন্য নির্ধারিত আসনে প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হলে, ভোট প্রদানের সময় তাদের সকল ভোটার উপস্থিত না থাকলে, কারিগরি বা নিয়মভঙ্গের কারণে ভোট বাতিল হলে কিংবা বিশেষ আইনি কারণে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আসনটি উন্মুক্ত হয়ে যায়। তখন ওই আসন আর নির্দিষ্ট দলের কোটায় থাকে না; বরং সব দল ও জোটের প্রার্থীদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হয়।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে জামায়াত জোট ১৩টি আসনের বিপরীতে ১৩ জন প্রার্থীর তালিকা জমা দিয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট আসনটি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হিসেবে সামনে আসছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। বর্তমানে সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা বেশি হওয়ায়, আসনটি উন্মুক্ত হলে নতুন তফসিলে ভোটের মাধ্যমে তাদের আসন সংখ্যা ৩৬ থেকে বেড়ে ৩৭-এ উন্নীত হতে পারে। বিপরীতে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২-তে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর জোটের পক্ষ থেকে নুসরাত তাবাসসুম নামে আরেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা রিসিভ কপিতে ১৯ মিনিট বিলম্বের কথা উল্লেখ করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
অন্যদিকে প্রার্থী মনিরা শারমিন দাবি করেছেন, কৃষি ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তার পদটি রাষ্ট্রের কোনো লাভজনক পদ ছিল না। এছাড়া এটি সরাসরি নির্বাচন নয়, বরং দলীয় মনোনয়নের বিষয় হওয়ায় আইনের এই বিধানকে অতটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।
তবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আরপিওর বিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
One thought on "আইনি জটিলতায় জামায়াত জোটের নারী প্রার্থী"
Comments are closed.