রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের উদ্যোগে প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন ‘টেকনোক্রেসি লাইট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ‘কোড-ক্যাঁচাল’ প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ও ‘হ্যাকস্পার্ক’ হ্যাকাথন—এই দুইটি পর্বে সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার (১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই সেমিনার কক্ষে প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রোগ্রামিং কনটেস্টে ৪৭টি দলের ১৪২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অপরদিকে হ্যাকাথনে অংশ নেয় ৪২টি দল, যেখানে মোট ১১৮ জন প্রতিযোগী নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। ‘কোড-ক্যাঁচাল’-এ অংশগ্রহণকারীদের অ্যালগরিদমিক চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং ব্রেইনস্টর্মিং সক্ষমতা উন্নয়নে মিডিয়াম থেকে হার্ড লেভেলের সমস্যা নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে ‘হ্যাকস্পার্ক’-এ প্রতিযোগীরা মিলিয়নস ডেটাসেট ব্যবহার করে প্রোডাকশন-লেভেল সার্ভারে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এতে টোকেন সীমাবদ্ধতা, ডেটা অপটিমাইজেশন এবং কার্যকর রিকোয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে স্কেলেবল সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও সুদৃঢ় হয়।
‘কোড-ক্যাঁচাল’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় অদিতি রয় ফ্যান ক্লাব। প্রথম রানার-আপ দ্য বেস্ট এবং দ্বিতীয় রানার-আপ টিম আবুল বুলবুল চুলবুল। এছাড়া ‘হ্যাকস্পার্ক’ হ্যাকাথনের বিভিন্ন প্রজেক্টের মধ্য থেকে নির্বাচিত শীর্ষ ১০টি দলের মধ্যে সেরা ৩টি দল ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন:জুরাইনে তরুণীর পচা লাশ উদ্ধার: হত্যার পর ‘হোয়াটসঅ্যাপ নাটক’ সাজানোর অভিযোগ
আয়োজক সিরাজুম মুনির বলেন, “আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জগতের বড় চ্যালেঞ্জের সঙ্গে পরিচিত করা। ‘কোড-ক্যাঁচাল’-এর মাধ্যমে আমরা তাদের জটিল অ্যালগরিদমিক দক্ষতা যাচাই করেছি। অন্যদিকে ‘হ্যাকস্পার্ক’-এ প্রথমবারের মতো ‘বিগ ডেটা’ বা মিলিয়নস ডেটাসেট ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও স্কেলেবল সফটওয়্যার নির্মাণে সক্ষম হয়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজন তাদের দক্ষ প্রবলেম সলভার হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও জানান, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে এবং পেশাগত জীবনে বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে ইসিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঐশী জ্যোতি বলেন, “প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয়ের চেয়ে বড় অর্জন হলো শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বর্তমান এআই বিপ্লবের যুগে শুধু প্রাথমিক দক্ষতা যথেষ্ট নয়। ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের উন্নত প্রোগ্রামিং দক্ষতা ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনে আরও মনোযোগী হতে হবে।”
প্রতিযোগী ইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুর রাফিউ বলেন, “বর্তমান ‘ভাইব কোডিং’-এর যুগে আমাদের ধারণা ছিল এআই দিয়ে সবকিছু সম্ভব। তবে হ্যাকস্পার্ক হ্যাকাথনে অংশ নিয়ে বুঝেছি, শুধু কোডিং জানাই যথেষ্ট নয়। বাস্তব সময়ের ডেটাবেজ চ্যালেঞ্জ ও সময়সীমার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে সিস্টেম ডিজাইন ও ডেভঅপসের প্রকৃত গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে সঠিক প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে প্রজেক্টের মান বজায় রাখা ছিল বড় শিক্ষা। দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রকৌশলী হতে হ্যাকাথনের বিকল্প নেই।”
পুরো আয়োজনজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। প্রোগ্রামিং কনটেস্টে কোড রান, ডিবাগিং এবং সমস্যা সমাধানকে ঘিরে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ক্যাম্পাসজুড়ে প্রাণবন্ত আবহ সৃষ্টি করে।
One thought on "উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশে রুয়েটে প্রোগ্রামিং ও হ্যাকাথন প্রতিযোগিতা"
Comments are closed.