উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা জানান, তেহরান তাদের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশ থেকে বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনোভাবেই রাজি নয়।
সূত্রটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ বিষয়টি কেবল চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় তোলা হতে পারে, তাই বর্তমান চুক্তির কাঠামোয় ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের কোনো শর্ত নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, যুদ্ধোপকরণ মানের কাছাকাছি থাকা কোনো ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে নেওয়া যাবে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত উদ্ধার ও ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান নাকি এই মজুদ হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে—যা পরবর্তীতে ইরান ঘনিষ্ঠ সূত্র সরাসরি অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন ছাড়া নেওয়া হয় না। শনিবার আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে এ তথ্য জানা যায়।
তার এ মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর কাঠামোর মধ্যেই নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ইরানের ক্ষমতা কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
এদিকে মোজতবা খামেনি মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রকাশ্যে না আসায় তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জনও তৈরি হয়েছে। এর পেছনে অতীত রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটও আলোচনায় রয়েছে।
চলতি মাসে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তিনি একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যদিও সেই বৈঠকের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক নীতি, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সব মিলিয়ে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে।