মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি কথিত হত্যার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা প্রশিক্ষিত মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি নামের ৩২ বছর বয়সী এক ইরাকি নাগরিককে এ পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত আইআরজিসি প্রধান কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ হিসেবেই ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সোলাইমানিকে নিজের গুরু ও পিতৃসম মনে করতেন আল-সাদি। ওই হত্যার ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরাকি ওই যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ান ক্রিক আইল্যান্ডের ২৪ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ির একটি নকশা প্রকাশ করে হুমকিসূচক বার্তা দেন। আরবি ভাষায় দেওয়া ওই পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে সতর্কবার্তাও দেন।
আরও পড়ুন :হজযাত্রায় পৌঁছেছেন ৭৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু
তার ভাষায়, “এই ছবিটির দিকে তাকান এবং জেনে রাখুন যেকোনো রাজপ্রাসাদ বা সিক্রেট সার্ভিস আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না। আমরা এখন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের পর্যায়ে আছি। আমাদের প্রতিশোধ নেওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।”
গত ১৫ মে তুরস্ক থেকে আল-সাদিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংস্থাগুলোর দাবি, তার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইহুদি নাগরিক ও ইহুদি সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো। ইভাঙ্কা ট্রাম্প ২০০৯ সালে জ্যারেড কুশনারকে বিয়ের আগে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন—এ কারণে তিনি আল-সাদির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহিংস ঘটনার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে আল-সাদিকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। একই কারাগারে আরও কিছু আলোচিত মামলার আসামিও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আল-সাদির আইনজীবীদের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। অন্যদিকে মার্কিন বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।