আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়নের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সূচক ‘নেচার ইনডেক্স’-এ প্রথমবারের মতো স্থান করে নিয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খান-এর গবেষণা কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ এ অর্জন এসেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫-২৬ সালের নেচার ইনডেক্স ইনস্টিটিউশন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ১৭তম। বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩৩৯৭তম স্থান লাভ করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে দেশের মধ্যে ১৩তম এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ে ১৬তম অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ড. মো. নুরুজ্জামান খানের প্রকাশিত তিনটি গবেষণা প্রবন্ধের ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো নেচার ইনডেক্সে অন্তর্ভুক্ত হয় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.১৩, যা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষণাক্ষেত্রে ড. মো. নুরুজ্জামান খানের অবদান ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। তার ৪৪টি স্কোপাস ইনডেক্সড গবেষণাপত্রসহ ১৮৪টিরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা রয়েছে। জনসংখ্যা বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ে তার গবেষণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে ড. মো. নুরুজ্জামান খান বলেন, “নেচার ইনডেক্সভুক্ত জার্নালের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন স্বনামধন্য সাময়িকীতে গবেষণা প্রকাশ করছেন। তাদের অবদানও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
গবেষকদের মতে, নেচার ইনডেক্সে স্থান পাওয়া কোনো প্রতিষ্ঠানের গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। তুলনামূলকভাবে নবীন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ স্বীকৃতি গবেষণা অগ্রযাত্রায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
উল্লেখ্য, স্প্রিঞ্জার নেচার পরিচালিত নেচার ইনডেক্স বিশ্বের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সাময়িকীগুলোতে প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অবদান মূল্যায়ন করে থাকে। গবেষণা জগতে এটি একটি অত্যন্ত সম্মানজনক সূচক হিসেবে বিবেচিত।