ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত আইনি বিরোধের অবসান ঘটেছে। আগের বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন না করেই বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজনকেই খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৬ মে মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানালেও আসামিপক্ষ তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমার সঙ্গে ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের বিয়ের ছবি ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
অভিযোগে বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসিরের বিরুদ্ধে তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার এবং বাদীর মানহানির অভিযোগও আনা হয়।
আরো পড়ুন:পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৫০০ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলায় আগের বিয়ে গোপন রেখে নতুন বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার এবং মানহানির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শেখ মো. মিজানুর রহমান নাসির হোসাইন, তামিমা সুলতানা তাম্মি ও তার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামি সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে রিভিশন আবেদন এবং তা খারিজ হওয়ার পর মামলার বিচার পুনরায় এগিয়ে চলে।
২০২৩ সালের মার্চে বাদী রাকিব হাসানের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যপর্ব শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
বিচারের শেষ পর্যায়ে আত্মপক্ষ সমর্থনকালে তামিমা সুলতানা তাম্মি আদালতে দাবি করেন, তিনি আইনগতভাবে আগের স্বামীকে তালাক দিয়েই নাসির হোসাইনকে বিয়ে করেছেন।
সব পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত বুধবার নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে মামলার দায় থেকে খালাস দেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন আলোচিত এ মামলার বিচারিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।