সরকারি প্রশাসনে জনবল সংকট দূর করা, সেবার মান বাড়ানো এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বড় ধরনের পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত, কার্যকর এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তরুণদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্টস ভিসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় ৮ থেকে ১০ বিঘা আয়তনের উন্মুক্ত খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা চালু করা হবে।
আরো পড়ুন:
টিকার সংকটে ঝুঁকিতে শিশুস্বাস্থ্য, উদ্বেগে অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা
শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আগামী অর্থবছরে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা পে-প্যাল চালুর সম্ভাবনা যাচাই ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “বিরোধী দলের এমপিদের এলাকায়ও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একই সঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে।”
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতো তাদের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক আসন না থাকলেও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতায় কাজের ক্ষেত্র নির্ধারিত রয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারী সংসদ সদস্যদেরও সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
এদিকে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যতে আমাদের মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর।”
ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এ আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জাতীয় নিরাপত্তা এই পাঁচ খাতকে কেন্দ্র করে সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে দেশের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।