জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একাডেমিক ভবনগুলো যেন শিক্ষার্থীদের জন্য একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বুধবার গণিত বিভাগের সেমিনার রুমে ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার পর ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত বেহাল দশা ও চরম ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতাকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জবি শাখা।
বুধবার (১ এপ্রিল) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জবি শাখার দপ্তর সম্পাদক তোকির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
জানা যায়, একই দিনে সকালে গণিত বিভাগের সেমিনার রুমে হঠাৎ করেই পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে দুজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু এবারই নয়, এর আগেও একই বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, কলা ভবন এবং অবকাশ ভবনের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গত বছর সংঘটিত ভূমিকম্পের পর এসব ভবনের ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত বছর ভূমিকম্পের পর ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে প্রশাসন প্রায় এক মাস ক্যাম্পাস বন্ধ রেখেছিল। সে সময় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রেট্রোফিটিংয়ের ব্যাপক আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো দৃশ্যমান প্রয়োগ ঘটেনি। কার্যকর কোনো সংস্কার কাজ না করেই শিক্ষার্থীদের চরম মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
এ প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জবি শাখার নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের যে বিপুল একাডেমিক ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে প্রশাসন ন্যূনতম নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারেনি।”
আজকের এই ভয়াবহ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিন দফা কঠোর দাবি জানিয়েছে ছাত্র ফ্রন্ট। দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে জবাবদিহিতার ওপর। সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে, গত বছরের ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে ভবনগুলো ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য ঠিক কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
আরো পড়ুন : বাংলাদেশের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি, নিন্দা আশা করেছিলাম: ইরানি রাষ্ট্রদূত
এছাড়া অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে কার্যকর সংস্কার ও রেট্রোফিটিং কাজ শুরু করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
শিক্ষার্থীদের জীবন কোনোভাবেই প্রশাসনের অবহেলার শিকার হতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।