শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নেচার ইনডেক্সে একাডেমিকে ১০ম, রসায়নে দ্বিতীয় জবি বসুন্ধরা শপিং মলে শত শত মানুষের সামনে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহার ‘সভ্যতার জন্য হুমকি’: পোপ লিও, আসছে নতুন ইশতেহার ১২৭তম নজরুল জন্মজয়ন্তী ও তারুণ্যের ভাবনা পঞ্চগড়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে কামারশালায় ব্যস্ততা থাকলেও বিক্রি কম নতুন সরঞ্জামের প্রতিমন্ত্রীর উদ্বোধনে পঞ্চগড়ে মাসব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা শুরু পঞ্চগড়ে ঈদের আগে সড়কে ধান-খড়, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে আজ পবিত্র আরাফার দিন ঈদের বাস, ডুয়েট শিক্ষার্থীদের ‘অধিকার’ এর প্রশ্ন লালপুরে ফাঁকা রাস্তায় ডাকাতির সময় ৩ জন ডাকাত সদস্য আটক

রুয়েটে রাজনীতির দ্বৈত বাস্তবতা: একদিকে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে তৎপরতা অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ২১ মোট ভিউ

 

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ছাত্ররাজনীতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও সময়ক্রমে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও, গুপ্ত ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ ঘিরে ভিন্ন মতও সামনে আসছে। ফলে ক্যাম্পাসে এখন রাজনীতি বনাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থানের এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ১০ আগস্ট অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে এর কিছুদিন পর থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।

নিষেধাজ্ঞার পর রুয়েটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা আসলে, রুয়েট উপাচার্যের সাথে ছবি উঠান। একই নেতৃবৃন্দের সাথে রুয়েট ছাত্রদলপন্থী কিছু শিক্ষার্থীও ছবি তুলে তা প্রকাশ করে তাদের সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক পেজে। সামগ্রিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুয়েট শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ফলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে এবং ছাত্র রাজনীতি বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং রুয়েট উপাচার্যের বাসভবনে তার সাথে সাক্ষাত করলে ঘটনাটি তখনকার মতো শান্ত হয়।

 

আরও পড়ুন: জাবি মেডিকেল সেন্টারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ঘিরে উত্তেজনা, আচরণ নিয়ে প্রশ্ন

 

২০২৫ সালের ২৬এপ্রিল রুয়েট গেটের সামনে মতিহার থানা বিএনপির একটি কর্মসূচির অভিযোগ ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের অনেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা প্রতিহত করলে প্রশাসনের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্টরা সরে যায়। এসময় কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে রাজনীতি বিরোধী স্লোগান দেন। উপাচার্য ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

গত বছরের ১৬অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনের সময় অভিযোগ ওঠে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি রুয়েট গেটের সামনে মাদুর পেতে অবস্থান নেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে পরে রুয়েট প্রশাসন তাদের সরিয়ে দেয়।

এবছর ১৩শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুয়েট শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে বিএনপির পক্ষে রাজশাহী মহানগরে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠে। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ব্যানারে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সমাবেশে যোগদানের ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে রুয়েটের ২৪সিরিজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ আয়োজন এবং রুয়েটের একটি বিভাগের গ্রুপে তার আমন্ত্রণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠে আসে।

পরবর্তী সময়ে টেন্ডার ও নিয়োগসংক্রান্ত একটি ঘটনা আলোচনায় আসে, যেখানে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এলাকাবাসীর প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরের এক নেতা। যদিও রুয়েট প্রশাসন অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করে। একই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের একাংশ ও প্রশাসনিক সূত্রে টেন্ডারকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগও সামনে আসে। এ ঘটনায় সাবেক জামায়াত সংশ্লিষ্ট এক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে।

এ সময়ের মধ্যেই ইসলামী ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট ভিন্ন একটি শাখা আয়োজিত একটি “মেধাবী সংবর্ধনা” অনুষ্ঠানে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আল হাসানের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে, যা ক্যাম্পাসের বাইরে সংগঠনের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে।

রুয়েটের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ব্যানার টানায়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তা অপসারণ করে এবং পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। শিক্ষার্থীরা আবারও রাজনীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের জানান দেয়।

একই ধারাবাহিকতায় এ বছরের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের অভিযোগ ওঠে। ২২এপ্রিল গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত রুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন কমর্সূচি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অফিসিয়াল পেজে প্রচার করা হয়। তবে গুপ্ত ও প্রকাশ্য উভয় রাজনীতি বন্ধের দাবিতে ছাত্র রাজনীতি বিরোধী শিক্ষার্থীরা ৪দিন পর ২৬এপ্রিল লাইব্রেরির সামনে ব্যানার টানালেও তা ছাত্রদলের সমর্থকেরা পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। একই সময়ে জিয়া হলের সামনের এলাকায় রাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলপন্থীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরের দিন রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের সামনে সকল ধরনের রাজনীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়। পরে প্রশাসন তাদের ৩দফা দাবি মানার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং তারা পুনরায় সকল রাজনীতি বন্ধের ব্যানার টানায়।

তবে নতুন করে ১মে আলোচনায় আসে তড়িৎকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদাত হোসাইনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্ট। সেখানে তিনি নিজেকে ইইই উপশাখার সভাপতি হিসেবে দাবি করেন। যদিও তিনি সরাসরি রুয়েট শাখার উল্লেখ করেননি, অন্য একটি ছবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রুয়েটের ২৩ সিরিজের নবীনবরণের ব্যানার দেখা যায়। এ বিষয়ে তিনি জানান,“আমি রুয়েটে আসার পর বিনোদপুর এরিয়াতে থাকতাম ওই সময় থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক ততকালীন হবিবুর হল সভাপতি ফারহান আহমেদের সাথে পরিচয়।  আমি সেই ফ্যাসিস্ট আমল থেকে থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত। আমি সেসময় থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত এবং এখনো রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাথেই যুক্ত। সেহেতু আমাকে অযাচিত ভাবে কেউ কেউ রুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতির সাথে ইনভলমেন্ট করছেন এইটা ঠিক না বলে আমি মনে করছি। ব্যক্তিগত জীবনে আমি যেকোনো আদর্শকে বাছাই করতেই পারি এবং আমি রুয়েট প্রশাসনের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে কোন রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছি না।”

কাম্পাসের এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ নিয়ে যন্ত্রকৌশল ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিন ইয়াসার সাদ বলেন,“ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থী যেন স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে – এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। নামে-বেনামে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সুস্থ ও প্রকাশ্য ধারার রাজনীতি চর্চা প্রয়োজন, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”

সামগ্রিকভাবে রাজনীতি বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচিত ইউআরপি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আল হাসান বলেন,“প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতাদর্শ থাকতেই পারে। তবে ছাত্রশিবির সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং রুয়েট প্রশাসন কতৃক যেহেতু আইনগতভাবে রাজনীতি নিষিদ্ধ সেহেতু ছাত্রশিবিরের ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে কোন কার্যক্রম নাই। যদি প্রশাসন আবার নতুন করে কোনদিন প্রজ্ঞাপন দেয় রাজনীতি বহালের সেক্ষেত্রে ছাত্রশিবির আবার নতুন করে চিন্তা করে দেখবে। তবে ছাত্রশিবির নিষেধাজ্ঞা প্রজ্ঞাপন জারি থাকা পর্যন্ত এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মতের বাইরে গিয়ে ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাবেনা।”

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থী, যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আরাফ মাসুদ দীপ্র বলেন,“ক্যাম্পাসে বিভিন্ন মতের মানুষ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা ক্যাম্পাসে সকল দল-মতের আদর্শ প্রকাশ্য ও সুস্থভাবে চর্চার পক্ষে। যা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের অধিকার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে একটি মহল শুধুমাত্র তাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য রাজনীতি চর্চায় বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এখানে নামে-বেনামে বিভিন্নভাবে গোপনে রাজনৈতিক চর্চা বিদ্যমান। আমরা গুপ্তভাবে রাজনৈতিক চর্চার বিপক্ষে। আমরা চাই তারাও তাদের আদর্শ চর্চা করুক। তবে অবশ্যই তা প্রকাশ্যে। এর সাথে আমরা ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক সেটাও চাই। ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে আমরা প্রশাসনকে বিষয়গুলো ভেবে দেখার অনুরোধ করবো।”

এ বিষয়ে তড়িৎকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত সাফিন তূর্য বলেন, “রাজনীতি বিষয়টা বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বাভাবিক হলেও দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি রুয়েটের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে কাম্য নয়। গত দেড় বছরে আমরা যে শান্ত পরিবেশ দেখেছি, তা রাজনীতি ফিরে এলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গুপ্ত রাজনীতি ও প্রকাশ্য রাজনীতি দুইটায় আমাদের প্রজ্ঞাপন অনুয়ায়ী নিষিদ্ধ।  যারা গুপ্ত ও প্রকাশ্য রাজনীতি করছে তারা উভয়ই অপরাধী।  আমরা চাই রুয়েট যেকোনো প্রকার রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থাকুক।”

একই মত প্রকাশ করে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বিন জাহিদ বলেন,“যে স্থিতিশীলতা এবং উন্নতি এসেছে তা চোখের সামনে দৃশ্যমান। গুপ্ত বা প্রকাশ্য যেভাবেই ছাত্ররাজনীতি ফিরে আসুক না কেন, দলাদলি, তোষামোদি, হলের সিট বাণিজ্য, টেন্ডারের ভাগ বাটোয়ারা নানা অনিয়ম ফিরে আসার শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে গুপ্ত প্রকাশ্য সকল ধরনের রাজনীতি প্রতিহত করতে সবাই কে এক হয়ে কাজ করতে হবে।”

তবে রুয়েট শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক ৩দফা দাবি নিয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক রবিউল ইসলাম সরকার বলেন,“যেদিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন, তখন উপাচার্য ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তিনি উপাচার্যের কাছে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি কমিটি হবে। ক্যাম্পাস এখন শান্ত। শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে আছেন।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আবদুর রাজ্জাক জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তিনি পেয়েছেন। বিষয়গুলো ভেবে দেখা হবে, একটি কমিটি গঠনের চিন্তা করা হয়েছে। এটি শিগগিরই করা হবে।

এক সময় ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা ও ঐকমত্য থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ভিন্ন মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের দাবি রুয়েটে গুপ্ত ও প্রকাশ্য সকল প্রকার রাজনীতি বন্ধের পক্ষে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বর্তমান রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা এবং রাজনীতি ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে একটি জটিল সমীকরণ সামনে এসেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

শেয়ার করুন

One thought on "রুয়েটে রাজনীতির দ্বৈত বাস্তবতা: একদিকে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে তৎপরতা অব্যাহত"

Comments are closed.

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital