জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রজাপতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যতিক্রমধর্মী একদিনের অ্যাক্টিভিজম পরিচালনা করেছে ৪০৫ নং পরিবেশ নৃবিজ্ঞান কোর্সের শিক্ষার্থীদের দল ‘আরণ্যক’।
“জাহাঙ্গীরনগরের প্রজাপতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘আরণ্যক’-এর একদিন” শীর্ষক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রজাপতির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল বা “Butterfly Hotspot” চিহ্নিতকরণ, স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে জীববৈচিত্র্য ও প্রজাপতি সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, তারা পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে জীববৈচিত্র্য ও প্রজাপতি সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে চিহ্নিত প্রজাপতি হটস্পটগুলো সুরক্ষিত রাখা এবং টেকসই সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন :দিনে সর্বোচ্চ আট ঘন্টা গাড়ি চালাতে পারবেন চালক
শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা অপসারণ, অপরিকল্পিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রজাপতির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। একসময় ক্যাম্পাসে ১১০ টির ও বেশি প্রজাতির প্রজাপতি দেখা গেলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
স্মারকলিপি গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তিনি প্রজাপতি সংরক্ষণ কমিটিতে বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপন করবেন বলেও জানান।
উল্লেখ্য, কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট প্রজাপতি গবেষক ড. মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় প্রজাপতির আবাসস্থল, সংরক্ষণ কৌশল, হটস্পট ব্যবস্থাপনা এবং ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য রক্ষার সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তাঁর পরামর্শ ও শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে প্রায় পাঁচটি স্থানকে প্রজাপতির হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, প্রজাপতি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই ছোট ছোট সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।
দল ‘আরণ্যক’-এর সদস্যরা হলেন— নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী দীপ, বায়জিদ, লুনা, সায়মা, মৌ, ইমরান ও আরাফাত।