ঈদ মানেই বাড়ি ফেরা। পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আনন্দ, দীর্ঘদিন পর আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর অনুভূতি। এগুলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছেই বিশেষ কিছু। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবারও নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়িয়েছে বাসভর্তি হাসিমুখের ছবি, আনন্দময় যাত্রার গল্প। কিন্তু সেই চিত্রের বাইরে থেকেছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)।
ডুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য এখনো কোনো ঈদ বাস সার্ভিস চালু হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই বাস্তবতা চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরে, তখন ডুয়েট শিক্ষার্থীদের অনেকেই বাধ্য হয় অতিরিক্ত ভাড়া, অনিরাপদ যাত্রা ও সীমাহীন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে।
প্রশ্ন হলো, এটি কি কোনো বিলাসিতা? মোটেও না। একজন শিক্ষার্থীর নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বের অংশ। বিশেষ করে ঈদের মতো সময়ে, যখন দেশের পরিবহন ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে থাকে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় বাস শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে ওঠে।
ডুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের জায়গাটাও এখানেই। তারা দেখছে দেশের প্রায় সব বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করছে। অথচ ডুয়েট, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে এই বিষয়টি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সেই হতাশাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
কেউ লিখেছেন, “আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবসময় পিছিয়ে থাকব কেন?” আবার কেউ বলেছেন, “আগামী ঈদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাস সার্ভিস চালুর দাবিতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
এসব বক্তব্য কেবল আবেগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিফলন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শুধু একাডেমিক সুবিধাই নয়, শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিশ্ববিদ্যালয় তখনই পূর্ণতা পায়, যখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিরাপত্তা, স্বস্তি ও আত্মিক সংযোগ অনুভব করে।
ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চাইছে না; তারা চাইছে সমঅধিকার। যে সুবিধা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে, সেই একই সুযোগ তারাও প্রত্যাশা করছে। এখন দেখার বিষয়— প্রশাসন এই প্রত্যাশাকে কতটা গুরুত্ব দেয়।
হয়তো আগামী কোনো ঈদে ডুয়েট শিক্ষার্থীরাও নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে বাড়ি ফিরবে। তখন এই ক্ষোভের জায়গা বদলে যাবে গর্বে
2 thoughts on "ঈদের বাস, ডুয়েট শিক্ষার্থীদের ‘অধিকার’ এর প্রশ্ন"
Comments are closed.