জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট এবং দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা খাতে মোট ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। ফলে এক অর্থবছরের ব্যবধানে প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরো পড়ুন:
যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের ভিত্তিতেই হবে নিয়োগ ও পদোন্নতি: বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এবারের বাজেটে সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা খাতেও তুলনামূলক বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।