রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাঠামোয় মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব বা অন্য কোনো বিবেচনার পরিবর্তে মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সকল ধরনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই), তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন:
৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর, সংসদে উত্থাপন অর্থবিল
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, শ্রমবাজারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সহায়তা জোরদার করা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এ ঘোষণার মাধ্যমে প্রশাসন ও কর্মক্ষেত্রে অধিকতর জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পথও আরও সুগম হবে বলে তারা মনে করছেন।