দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের এইচএসসি পর্যায়কে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতে ববি হাজ্জাজ নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং ভবিষ্যৎমুখী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার অবহেলার ফল এখন দৃশ্যমান। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছে না। এমনকি সিঙ্গাপুরে আমাদের এইচএসসি লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।”
আরো পড়ুন:শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদে গণবিজ্ঞপ্তি
তিনি জানান, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সমালোচনাকারীদেরও জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে। তবে এ নিয়ে কিছু মহল নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে, যা তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও উন্মুক্ত চিন্তার সুযোগ দিতে হবে। সে লক্ষ্যেই সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই হার ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা স্বাগত হলেও জাতীয় উন্নয়ন ও শিক্ষা সংস্কারের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করা উচিত হবে না।