জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হলে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকে কেন্দ্র করে ‘চাঁদা’ দাবির অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাসুদ রানা মিষ্টুর বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।
কর্মীদের অভিযোগ
ইন্টারনেট সংযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মী অভিযোগ করেন, হলে নিয়মিত সেবা চালু রাখতে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে। তার দাবি, “সংযোগ সচল রাখতে ২৫ হাজার টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে আয়ের ১৫ শতাংশ দিতে বলা হয়। তা না হলে হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।”
আরেকজন কর্মী জানান, পরিস্থিতির কারণে তারা তাদের অফিসে বিষয়টি জানালে কর্তৃপক্ষ সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দেয়। তিনি বলেন, “আমরা অফিসে জানালে সংযোগ বন্ধ করে হল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ আসে। এরপর গ্রাহকদের আইডি ব্লক করা শুরু করি।”
জিএসের পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জিএস মাসুদ রানা মিষ্টু বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা কোনো ধরনের অর্থ দাবি করিনি। শুধু ভালো মানের সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তারা যদি তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেবা বন্ধ করে চলে যেতে পারে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “প্রোভাইডার পক্ষ থেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
প্রশাসনের অবস্থান
আরও পড়ুন:নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘হুমায়ূন মেলা-১৪৩৩’
এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম জানান, এখনো তার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তিনি বলেন, “অভিযোগ পেলে এবং সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি নিয়ে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিন্নতার কারণে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছেন, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করা জরুরি, যাতে করে হলে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করা যায়।
One thought on "জাবিতে ইন্টারনেট সংযোগে ‘চাঁদা’ দাবির অভিযোগ, জিএসের অস্বীকারে তৈরি বিতর্ক"
Comments are closed.