জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিলের এ ঘটনাকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, দর্শন বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নিপা আক্তার পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মেডিকেল রিপোর্ট নেওয়ার জন্য মেডিকেল সেন্টারে যান। এ সময় তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া নিয়ে দায়িত্বে থাকা এক স্টাফ ও চিকিৎসকের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই স্টাফ চিকিৎসকের সঙ্গে উঁচু স্বরে কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় না নিয়ে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। এমনকি শিক্ষার্থীকে চেম্বার থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন:জাবিতে ইন্টারনেট সংযোগে ‘চাঁদা’ দাবির অভিযোগ, জিএসের অস্বীকারে তৈরি বিতর্ক
ঘটনাটি সামনে আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানবিক পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিপা আক্তার বলেন,
“আমি চাই, আমার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা যেন আর কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে না ঘটে।”
শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও সংবেদনশীল আচরণ প্রত্যাশিত। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে এবং ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।