রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বহুল আলোচিত ইউনিক কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২ মে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের (২৫ সিরিজ) তিনটি বিভাগ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এ পদ্ধতি চালু করা হবে। এই ব্যবস্থার আওতায় পরীক্ষার্থীর নাম-পরিচয় গোপন রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে, যা মূল্যায়নে পক্ষপাতহীনতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ের বাস্তবায়ন সন্তোষজনক হলে পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিল সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও বর্ষে ধাপে ধাপে এই পদ্ধতি সম্প্রসারণ করা হবে। এ উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির মধ্যে কোডিং সিস্টেম চালু অন্যতম ছিল। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। দীর্ঘদিন দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।
আরও পড়ুন :জবির ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসলামের মায়ের মাগফিরাতের জন্য দোয়া
এ প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই রুয়েট কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে দ্রুত কোডিং সিস্টেম চালুর দাবি জানান। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে ১২ দফা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কোডিং সিস্টেম ছিল আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি। অতীতে শিক্ষকদের বিরাগভাজন হয়ে অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা তাদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই পদ্ধতি চালু হলে এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করছি।”
অন্যদিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন নাহিদ বলেন, “এই দাবির বাস্তবায়নের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও আলোচনা চালিয়ে গেছি। প্রশাসন থেকে আশ্বাস পেলেও বাস্তবায়নে সময় লেগেছে। এখন এটি কার্যকর হওয়ার পথে, তবে আরও দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের বহুল প্রত্যাশিত এই কোডিং সিস্টেম বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে, অন্যদিকে রুয়েটের একাডেমিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়নের নতুন ধারা সূচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
One thought on "দীর্ঘদিনের দাবির পর রুয়েটে পরীক্ষায় চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি"
Comments are closed.