জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও আয়োজন করা হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ২০২৬’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন (জেইউমুনা)-এর উদ্যোগে এ বছরের অষ্টম সংস্করণ আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (০৫ মে) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেইউমুনার সভাপতি ও সম্মেলনের সেক্রেটারি জেনারেল ফাহমিদা সুলতানা তামান্না জানান, এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—জলবায়ু সহনশীল বিশ্ব গঠনে বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবধর্মী কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা দিতে মোট আটটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন :সোনারগাঁয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC), নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কমিটি (DISEC), ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক কমিশন (ECLAC), জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল (UNHRC), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP), জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP), মডেল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অব বাংলাদেশ এবং ইউনাইটেড নেশনস নিউজ এজেন্সি (UNNA)।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি কমিটিতে সমসাময়িক বৈশ্বিক সংকট, নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে UNSC ও UNNA কমিটিতে ওপেন এজেন্ডা থাকায় চলমান আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে তাৎক্ষণিক বিতর্কের সুযোগ থাকবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৫ মে সকালে যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। একইদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে কমিটি সেশন শুরু হবে। ১৫ ও ১৬ মে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শেষে ১৭ মে সকালে কার্যক্রম শেষ হবে। পরে সাভার গলফ ক্লাবে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন করা হবে। এছাড়া প্রতিদিনের সেশন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাখা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রায় ৩০০ জন ডেলিগেট নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩৫০ ছাড়ানোর আশা করা হচ্ছে। জাবি শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা আরও তিনদিন বাড়ানো হয়েছে।
ঢাকার বাইরে থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্যদের জন্য যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকার সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শাহবাগ, মিরপুর ও উত্তরা রুটে পরিবহন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং পাবলিক স্পিকিং, নেগোসিয়েশন ও ক্রিটিক্যাল থিংকিং দক্ষতা বিকাশের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।