দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে আইন ও বিচার বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইন ও বিচার বিভাগের তিনটি স্থায়ী প্রভাষক পদের বিপরীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ জন প্রার্থী সাক্ষাৎকারে অংশ নেন।
নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ও আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আগের তুলনায় বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুধু মৌখিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে প্রার্থীদের ডেমো ক্লাস, পাওয়ার পয়েন্ট ও মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দক্ষতা যাচাই করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যোগ্যতা ও প্রস্তুতির ভিত্তিতেই এবার প্রার্থী বাছাই করা হবে। সর্বোচ্চ যোগ্য ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকেই সাক্ষাৎকার কার্যক্রমের প্রস্তুতি শুরু হয় এবং দুপুরের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষাৎকার শেষে প্রার্থীদের নথিপত্র সিলগালা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা আগামী সিন্ডিকেট সভার আগে খোলা হবে না।
আরো পড়ুন :আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি সহকারে ডুয়েটে বিশ্ব মেধাসত্ব দিবস উদযাপন
জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, “সময় ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিমালাটি আগের তুলনায় উন্নত হলেও এর কার্যকারিতা সময়ই বলে দেবে।”
তবে নতুন নীতিমালার কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “গবেষণা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের চেয়ে প্রাথমিক জিপিএকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া বৈষম্যমূলক হতে পারে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, “নতুন নিয়োগ নীতিমালায় প্রার্থীদের নিজস্ব যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ সময় লাগায় কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, ভাইভা ও ডেমো ক্লাসের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
One thought on "দুই বছর পর জাবিতে আবারও বসল শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড"
Comments are closed.