জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচলরত একটি ইলেকট্রিক কার্ট আটকে রেখে অর্থ দাবি, চালককে মারধর এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সেলিম রেজার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও সেখানে ‘চা-পানি’ খরচের নামে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ইমন হাসানের বরাতে জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পরিবহন সেবায় ব্যবহৃত একটি ইলেকট্রিক কার্ট পরিচালনা করেন। কয়েক বছর আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুদ পরিশোধও করে আসছিলেন। তবে গত মাসে সেলিম রেজা নিজেকে ঋণদাতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তার কাছে বকেয়া টাকা দাবি করেন এবং চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ডিপো এলাকায় তিনটি কার্ট শেকল দিয়ে আটকানো হয় এবং আনসার সদস্যদের অনুমতি ছাড়া কার্ট না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এরপর বটতলায় ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রথমে ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে তা কমিয়ে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন :এআই প্রযুক্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা, প্রতারকচক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি
একইসঙ্গে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনার কয়েকদিন পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মো. সেলিম রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে কখনও সাক্ষাৎ হয়নি বা বাস ডিপোতে যাননি।
তবে অন্য একটি অডিও রেকর্ডে তিনি বাস ডিপোতে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও কার্ট আটক বা অর্থ দাবির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
এদিকে, বিষয়টি জানার পর সমঝোতার মাধ্যমে কার্ট ছাড়ানোর উদ্যোগ নেন শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মাজহারুল আমিন তমাল—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে সেখানে ‘চা-পানি’ খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর। যদিও তমাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি শুধু বিষয়টি জানার পর খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং কোনো অর্থ দাবি করেননি।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের একজনকে নিয়ে অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বিতর্কিত পরিচয়ের প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।