শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নেচার ইনডেক্সে একাডেমিকে ১০ম, রসায়নে দ্বিতীয় জবি বসুন্ধরা শপিং মলে শত শত মানুষের সামনে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহার ‘সভ্যতার জন্য হুমকি’: পোপ লিও, আসছে নতুন ইশতেহার ১২৭তম নজরুল জন্মজয়ন্তী ও তারুণ্যের ভাবনা পঞ্চগড়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে কামারশালায় ব্যস্ততা থাকলেও বিক্রি কম নতুন সরঞ্জামের প্রতিমন্ত্রীর উদ্বোধনে পঞ্চগড়ে মাসব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা শুরু পঞ্চগড়ে ঈদের আগে সড়কে ধান-খড়, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে আজ পবিত্র আরাফার দিন ঈদের বাস, ডুয়েট শিক্ষার্থীদের ‘অধিকার’ এর প্রশ্ন লালপুরে ফাঁকা রাস্তায় ডাকাতির সময় ৩ জন ডাকাত সদস্য আটক

১২৭তম নজরুল জন্মজয়ন্তী ও তারুণ্যের ভাবনা

সামিয়া সুলতানা সাবনম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ১৮ মোট ভিউ

 

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর আদর্শ, বিদ্রোহী চেতনা ও মানবতাবাদী দর্শন তরুণ সমাজকে সাহস, সাম্য ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করে। তার সাহিত্যকর্মে রয়েছে অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও চেতনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন – সামিয়া সুলতানা সাবনম।

 

 

 

 

 

সাম্যবাদী আদর্শ আজও প্রেরণা।

 

– তানভীর হাসান ইমাম

শিক্ষার্থী, স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ, জাককানইবি।

 

চির বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কাব্য ও  সাহিত্য কর্মে অন্যায়, শোষণ-বঞ্চনা, সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর আদর্শ তারুণ্যের মানে সাহস ও শক্তি সঞ্চার করে। তিনি তরুণদের অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উৎসাহ দিয়েছেন সবসময়। তাঁর সাহিত্য কর্মে প্রকাশ ঘটেছে সাম্যবাদী চেতনা, আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। নজরুল বিশ্বাস করতেন, তরুণ সমাজই রাষ্ট্র,দেশ ও জাতি পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। তাই তিনি তরুণদের তারুণ্যকে জাগ্রত করে, সামাজিক অন্যায়, অবিচার, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং বৃহত্তর মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর সাম্যবাদী আদর্শ আজও তরুণদের সত্য,ন্যায়, সাম্য-সম্প্রতি ও স্বাধীনতার পথে অনুপ্রাণিত করে। কাজী নজরুল ইসলামের এই সাম্যবাদী আদর্শ আজও তারুণ্যের ভাবনায় ও চেতনায় স্থান করে নিয়েছে চির বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে।।

 

 

নজরুলের আদর্শে গড়ে ওঠা চেতনা।

-আঞ্জুমান আরা জুঁই

শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, জাককানইবি।

 

যে কণ্ঠ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রনিনাদের মতো গর্জে উঠেছিল, যে কলম সাম্য ও মানবতার জয়গান গেয়েছিল, সেই বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আজও তারুণ্যের প্রেরণার উৎস। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহ ছিল অন্যায়, অত্যাচার, বৈষম্য, কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে যুগে যুগে তরুণেরা সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনগুলোতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকায় নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে তরুণদের মনে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তাঁর রচনায় ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান ধ্বনিত হয়েছে। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের স্বপ্ন তিনি লালন করতেন। আজকের তরুণ সমাজ তাঁর এই আদর্শ থেকে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও নৈতিক শক্তি লাভ করে। সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি, বৈষম্য কিংবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রেরণা তরুণরা নজরুলের জীবন ও সাহিত্য থেকে পায়। বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার যে বাণী কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চারণ করেছিলেন, তা আজও তারুণ্যের চিন্তা, চেতনা ও কর্মপ্রেরণার অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে রয়েছে।

 

 

সমাজ গড়ার দিকনির্দেশক নজরুল।

– মুশফিকুর রহমান তুহিন

শিক্ষার্থী, স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ, জাককানইবি।

 

কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর আদর্শ ও চেতনা আজকের তারুণ্যের জন্য সাহস ও মানবতা এক অনন্য প্রেরণা। তিনি সবসময় অন্যায়, শোষণ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন এবং তরুণদের ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ সত্যিকারের বিদ্রোহ বলতে ধ্বংস নয় বরং কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে সচেতন প্রতিবাদকেই বুঝায়। নজরুলের লেখনি তরুণ সমাজকে আত্মবিশ্বাসী, দেশপ্রেমিক এবং প্রতিবাদী হতে শেখায়। তিনি বিশ্বাস করতেন—ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত বিভেদ নয়,বরং মানবতাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়। বর্তমান সমাজে বৈষম্য, দুর্নীতি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হলে তরুণদের নজরুলের আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন। তাঁর ‘বিদ্রোহী’ চেতনা আমাদের ভয়কে জয় করে সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে শেখায়। নারী-পুরুষের সমতার প্রশ্নেও নজরুল ছিলেন উচ্চকণ্ঠ, যা আজও তারুণ্যকে অনুপ্রাণিত করে। তাই তাঁর আদর্শ শুধু সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারুণ্যের নৈতিক শক্তি ও প্রগতিশীল চিন্তারও অন্যতম ভিত্তি। আমরা নজরুলকে আধুনিক বলেই মনে করি, কারণ তিনি যেমন অন্যায় ভাঙতে শেখান, তেমনি মানবিক সমাজ গড়ার দিকনির্দেশনাও দেন। একজন তরুণ হিসেবে নজরুলের আদর্শ চর্চার বিকল্প নেই বলে আমি মনে করি।

 

 

তারুণ্যের বজ্রকণ্ঠ নজরুল।

– হামিমা আফরিন

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, জাককানইবি।

 

বাঙালি তরুণদের ধমনিতে যখনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রক্ত টগবগ করে ওঠে, তখনই অবধারিতভাবে সামনে আসেন একজনই—কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি শুধু একজন কবি নন, তিনি চিরতারুণ্যের এক অবিনাশী ইশতেহার। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ সত্তা আর তারুণ্যের ভাবনা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। নজরুল বিশ্বাস করতেন, তারুণ্য কোনো বয়সের ফ্রেমে বাঁধা সংখ্যা নয়; তারুণ্য হলো জরাজীর্ণকে ভেঙে নতুন কিছু গড়ার অদম্য মানসিকতা। শৃঙ্খলিত পরাধীন সমাজে তিনি যুবসমাজকে ডাক দিয়েছিলেন সব শিকল ভেঙে ফেলার। তাঁর ‘চল চল চল’ গানটি আজও তরুণ মনকে যেকোনো জড়তা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। আজকের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়েও নজরুলের আদর্শ সমান প্রাসঙ্গিক। কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তরুণদের যে আপসহীন মানসিকতা প্রয়োজন, তার শ্রেষ্ঠ জ্বালানি নজরুলের কবিতা ও দর্শন। নজরুলের চেতনাকে বুকে ধারণ করার অর্থ হলো—অন্যায় দেখে চুপ না থাকা, সংকটে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো এবং মানবতার জয়গান গাওয়া। কবির সেই বজ্রকণ্ঠ আজও প্রতিটি তরুণের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয়: “আমি চির-উন্নত শির!”

 

নজরুলের আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক।

– মোঃ নয়ন উদ্দীন

শিক্ষার্থী, মার্কেটিং বিভাগ, জাককানইবি।

 

অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই সমাজের নানা অনিয়ম, পরাধীনতা ও মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করত। প্রেম ও মানবতার কবি হয়েও চারপাশের অবিচার তাঁকে বিদ্রোহী করে তোলে। তাই তাঁর হাতে থাকা বাঁশি একসময় রূপ নেয় অগ্নিবীণায়। নজরুল বিশ্বাস করতেন, সত্যিকারের প্রেম, সাম্য ও মানবতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন স্বাধীন ও বৈষম্যহীন সমাজ। বর্তমান সময়ের তরুণ সমাজের কাছেও নজরুলের আদর্শ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর গান, কবিতা ও উক্তি তরুণদের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বিশেষ করে সাম্য, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে তাঁর সাহিত্যকর্ম। চিরবিদ্রোহের এই প্রতীক আজও তরুণদের মনন ও চেতনায় এক অবিনাশী প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন। তাঁর কবিতা ও গান তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখায় এবং মানবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়। তাঁর বিদ্রোহী মনোভাব, মানবিক ও সাম্যবাদী আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে ত্রিশালে পালিত হচ্ছে নজরুল জয়ন্তী-২০২৬।

 

 

বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান।

– তুলি আক্তার

শিক্ষার্থী, স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ, জাককানইবি।

 

কাজী নজরুল ইসলাম এর রচনা ও দর্শনে তাঁর বিদ্রোহী সত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা তরুণ প্রজন্মের চিন্তা-চেতনা ও কর্মে গভীর প্রভাব ফেলে। তাঁর আদর্শ ধারণ করে তরুণরা অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। তিনি তরুণদের শিখিয়েছেন বর্ণবাদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে “সবার উপরে মানুষ সত্য” এই মানবিক চেতনাকে ধারণ করতে। নজরুলের কুসংস্কারবিরোধী চেতনা তরুণদের অন্ধবিশ্বাস, জ্যোতিষচর্চা ও বর্ণবিদ্বেষ থেকে দূরে থাকতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর সাহিত্যকর্মে তারুণ্যকে সাম্যবাদী চেতনা, আত্মবিশ্বাস, অসীম সাহস, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও অদম্য প্রাণশক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নজরুল বিশ্বাস করতেন, তরুণরাই জাতি ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। তাই তিনি তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের অন্যায়, শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সত্যকে ধারণ করা ও মিথ্যার কাছে মাথা নত না করার শিক্ষাই তাঁর তারুণ্য ভাবনার মূল শক্তি। যুগ যুগ ধরে কাজী নজরুল ইসলামের এই চেতনা ধারণ করে চলেছেন তরুণ সমাজ।

 

 

 

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital