শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারলেন না ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধান ৩০ বছর জেল দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন লালমনিরহাট সীমান্তে কড়া নজরদারি, বিজিবির সঙ্গে মাঠে স্থানীয়রাও চীনের মতো এগোতে হলে নিজেদেরই বদলাতে হবে: মির্জা ফখরুল অটো লগআউটের বিভ্রাটে ফেসবুক-মেসেঞ্জারের কোটি ব্যবহারকারী বাগাতিপাড়ায় জনকল্যাণে সহায়তার হাত প্রসারিত করলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উদ্ভাবনী ধারণা,গবেষণা এবং স্টার্টআপ অনুষ্ঠিত। পঞ্চগড়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা : কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ পঞ্চগড়ে ইউ-ড্রেন ভাঙায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

বিতর্ক, সমালোচনা আর আত্মগোপন; সাড়ে তিন মাস পর সাবেক উপদেষ্টাদের অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১৯ মোট ভিউ

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের প্রায় সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সময়ের নীতি, সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক এখনো রাজনৈতিক অঙ্গন এবং জনপরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের অনেকে প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে গেছেন, কেউ ফিরেছেন পুরোনো পেশায়, কেউ আবার অবস্থান করছেন বিদেশে। একই সময়ে তাদের কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও সমালোচনাও সামনে আসছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা জনসমক্ষে উপস্থিতি কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ নিয়মিত কর্মস্থলে যাচ্ছেন না, আবার কেউ গণমাধ্যম ও জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। অনেকের মধ্যেই এখনো নিরাপত্তা ও মব-সংক্রান্ত উদ্বেগ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জের এক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও এ বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দেন। এর পর থেকেই কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বিদেশ সফর ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

আরও পড়ুন :রোহিঙ্গা সংকট ও এলডিসি উত্তরণে স্পেনের সহযোগিতা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

দায়িত্ব ছাড়ার পর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসা ও তাঁর ‘থ্রি জিরো’ ধারণা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

 

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক কিচেন ক্যাবিনেট ছিল, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষের কথাও প্রকাশ করেন তিনি।

 

নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বর্তমানে গবেষণা ও লেখালিখিতে সময় দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফেরার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা উবিনীগের কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান তুলে ধরছেন।

 

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বর্তমানে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার লেখালিখিতে মনোযোগ দিয়েছেন এবং তিনিও কিচেন ক্যাবিনেট বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন।

 

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ দীর্ঘদিন পর নিজের প্রতিষ্ঠান ব্রতীর কার্যালয়ে ফিরেছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করছেন এবং নিয়মিত অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব ছাড়ার পর পুনরায় বেলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পারিবারিক কারণে কিছুটা ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন।

 

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচনার জবাবে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয়, এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকে না। এদের নিয়া কথা বলা তো দূরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন উচ্চারণ করেনি। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা! যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি।’

 

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আবারও শিক্ষকতা পেশায় ফিরেছেন। দুজনই বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বই লেখা ও ব্যক্তিগত গবেষণায় সময় দিচ্ছেন।

 

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে মনোযোগী হয়েছেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম পুরোনো কর্মস্থলে ফিরলেও সাম্প্রতিক সময়ে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

 

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরেছেন এবং নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তাঁর প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও জনসমক্ষে তেমন সক্রিয় নন।

 

এ ছাড়া শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আববার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাসহ আরও কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন।

 

সব মিলিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরে যাওয়ার পর সাবেক উপদেষ্টাদের জীবনযাত্রা ও অবস্থান এখনো জনমনে কৌতূহলের বিষয় হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দায়িত্বকালীন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও থামেনি।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital