নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক বৃদ্ধা মাকে হত্যার পর তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে টয়লেটের গর্তে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে আপন ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে। পরে মরদেহ গোপনে ডোবায় ফেলে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া এলাকায়। নিহত বৃদ্ধার ছেলে জনাব আলী (৫০) ও নাতি আল আমিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে সিংড়া থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, বৃদ্ধা মা বড় ছেলের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছোট ছেলে তাকে ঘরে ডেকে নেয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহের হাত-পা বেঁধে একটি বস্তার ভেতরে ভরে বাড়ির টয়লেটের গর্তে লুকিয়ে রাখা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন পর টয়লেট এলাকা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে অভিযুক্তরা মরদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়। পরে একটি কুকুর বস্তাটি টেনে বাইরে নিয়ে এলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ছেলে ও নাতিকে আটক করে। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো কারণ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন মা সন্তানের জন্য সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেন। সেই মায়ের এমন পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন। তারা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।