বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ফল উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত জুলাই ডকুমেন্টারিতে ছবি না থাকায় ক্ষোভ, উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠান বয়কট ছাত্রদলের একাংশের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো গবেষণা প্রকল্প ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেমিনার জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর মোজাফফরের বিচার হবে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি স্বর্ণ বাংলাদেশে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ৪০০ ড্রোন দিয়ে রাশিয়ায় হামলা ইউক্রেনের এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা চালু করল সৌদি আরব সারাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জুতা থেকে উন্মোচিত রহস্য: রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিটে উঠে এলো নৃশংস বর্ণনা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৪১ মোট ভিউ

 

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে ঘটনাটির ভয়াবহ ও শিউরে ওঠার মতো কিছু তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে হত্যার পর আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ লুকানোর চেষ্টা করা হয় এবং ঘটনাস্থল আড়াল করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

গত রবিবার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান। পরে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

 

অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন :সভা-সমাবেশে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নেই

 

 

 

তদন্ত নথি অনুযায়ী, স্বপ্না খাতুন ছিলেন সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, পরকীয়ার সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের বিয়ে হয়। সোহেলের আগের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে অটোরিকশা মেকানিক সোহেল পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের একটি বাসা ভাড়া নেন। তিন কক্ষের ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকতেন সোহেল ও স্বপ্না। পাশের দুই কক্ষে থাকতেন মাসুদ পারভেজ ও জেসমিন আক্তার দম্পতি। রান্নাঘর ছিল যৌথ ব্যবহারের।

 

চার্জশিটে বলা হয়, ঘটনার দিন ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী দম্পতি প্রতিদিনের মতো বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে অভিযুক্ত সোহেল তাকে নিজের কক্ষের সামনে ডেকে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার পর পরিবার রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে আশপাশে খোঁজ শুরু করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তের বাসার সামনে শিশুটির একটি জুতা দেখতে পান তার মা। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তিনি দরজায় ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাসার ভেতরে থাকা স্বপ্না দরজা বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করে রামিসার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় সোহেলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বপ্না জানান, গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে সোহেল।

 

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন হওয়ায় তদন্তে উঠে আসা তথ্যগুলো আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক আদালতে প্রমাণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital