মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের জেরে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা সফল হওয়ার আশাবাদ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তেলের বাজারে এই বড় দরপতন ও স্থিতিশীলতা দেখা গেছে।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে বৈশ্বিক তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৮৭ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৬৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের কার্যদিবসগুলোতে দুই বেঞ্চমার্কেরই দাম কমে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের স্তরে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
খনিজ তেল সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে শুরু করেছে, যা বাজারে দাম কমার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। মে মাসের তুলনায় জুন মাসে কুয়েতের দৈনিক তেল উৎপাদন এক লাফে প্রায় তিন গুণ বেড়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ১ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে সৌদি আরবের পাঁচটি সুপারট্যাংকার ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ দ্রুত বাড়ায় এবং ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই নিম্নমুখী ও স্থিতিশীল প্রবণতা বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।