শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নেচার ইনডেক্সে একাডেমিকে ১০ম, রসায়নে দ্বিতীয় জবি বসুন্ধরা শপিং মলে শত শত মানুষের সামনে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহার ‘সভ্যতার জন্য হুমকি’: পোপ লিও, আসছে নতুন ইশতেহার ১২৭তম নজরুল জন্মজয়ন্তী ও তারুণ্যের ভাবনা পঞ্চগড়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে কামারশালায় ব্যস্ততা থাকলেও বিক্রি কম নতুন সরঞ্জামের প্রতিমন্ত্রীর উদ্বোধনে পঞ্চগড়ে মাসব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা শুরু পঞ্চগড়ে ঈদের আগে সড়কে ধান-খড়, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে আজ পবিত্র আরাফার দিন ঈদের বাস, ডুয়েট শিক্ষার্থীদের ‘অধিকার’ এর প্রশ্ন লালপুরে ফাঁকা রাস্তায় ডাকাতির সময় ৩ জন ডাকাত সদস্য আটক

মেধা, সংগ্রাম ও নেতৃত্বে উজ্জ্বল ছাত্রনেতা প্রিন্স

তানিয়া শবনম, জবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭ মোট ভিউ

শিক্ষাজীবনের সাফল্য, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার সমন্বয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ ছাত্রনেতা মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স। ছাত্রজীবন থেকেই মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন দায়িত্বশীল ছাত্র সংগঠক ও সম্ভাবনাময় জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব হিসেবে।

প্রাথমিকে স্কুল ফার্স্ট, নিম্ন মাধ্যমিকে বৃত্তি অর্জনসহ যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে তার মেধার স্বাক্ষর শুরু হয়। পরবর্তীতে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নটরডেম কলেজ ঢাকা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

পারিবারিকভাবেও তিনি শিক্ষিত ও রাজনৈতিক পরিবার থেকে বেড়ে উঠেছেন। তার পিতা সদ্যপ্রয়াত ডা. মো: শওকত আলী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও আমৃত্যু সহ সভাপতি ছিলেন। প্রিন্সের মাতা মোসা: তাছলিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন, দীর্ঘ ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষ করে সম্প্রতি তিনি অবসরকালীন ছুটিতে আছেন।

উচ্চশিক্ষা ও ছাত্ররাজনীতি চর্চার অভিপ্রায়ে মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও বৈরি প্রেক্ষাপট সত্ত্বেও একজন কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে প্রিন্স তার স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) প্রথম শ্রেণি অর্জনের মাধ্যমে সফলভাবে সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএল.বি ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম. ফিল শিক্ষার্থী হিসেবে “ধর্মীয়-রাজনৈতিক সহিংসতা: দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যকর গণতন্ত্রের অন্তরায়” শীর্ষক শিরোনামে গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।

একাডেমিক শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি ছিলেন সমানভাবে সক্রিয়। ছোটবেলা থেকেই কাব-স্কাউটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে স্কাউটের প্রেট্রল লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন কৃতি বিতার্কিক হিসেবেও স্বাক্ষর রেখেছেন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিতর্ক সংগঠনে ও আয়োজনে। তিনি স্কুলজীবন থেকেই আবৃত্তি করেন ও নটরডেম কলেজ আবৃত্তি দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রিন্স-এর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা। নিজ ইউনিয়ন ও মহেশপুর উপজেলা শাখা ছাত্রদলের সাথে স্কুল জীবন থেকেই তার ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রনেতা প্রিন্স পৃথকভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ) শাখা ছাত্রদল এবং মেহেরপুর জেলা শাখা ছাত্রদলের জন্য কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এই দুটি ইউনিটকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য সংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

মেহেরপুর জেলা ছাত্রদল ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতা-কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, “বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও জেলা শাখা ছাত্রদলকে শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে কর্মীবান্ধব আচরণ ও সময়োপযোগী সাহসীকতা ও যোগাযোগ সক্ষমতার নৈপুণ্যের মাধ্যমে এই দুই জেলা ইউনিটকে শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিটে রূপায়ণে কেন্দ্রীয় সংসদ প্রদত্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন তিনি”। সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রতিপালন ও অধিকার আদায়ে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে প্রিন্স একজন দক্ষ সংগঠক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। ছাত্রদলের অনেকে তো ছাত্রনেতা প্রিন্সের চলন-বলন-কথন এবং অবয়বের জন্য প্রিন্সকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষ সংগঠক প্রয়াত শফিউল বারী বাবু’র প্রতিচ্ছবি হিসেবে জুনিয়র বাবু বলেও বিশেষায়িত করেন অনেক সময়।

 

আরো পড়ুন :শিবির সমর্থন না করায় অর্থ সম্পাদককে বহিষ্কার করলো জবি প্রেসক্লাব

 

 

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। গণতন্ত্র মুক্তি ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতকরণ ও জনদাবিতে স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, মামলা, হামলা, গ্রেফতার, নির্যাতন সবকিছু উপেক্ষা করে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি কন্ঠে শিক্ষার্থীদের অধিকারের সংগ্রাম ধারণ করে রাজপথের ‘স্লোগান মাস্টার’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন প্রিন্স।

প্রিন্স-এর কয়েকজন সহপাঠীর সাথে কথা বললে তারা বলেন “প্রিন্সকে বুঝতে হলে শুধু রাজনীতির ভেতর দিয়ে দেখলে হবে না। ক্যাম্পাসের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও সে ছিল সমান সক্রিয়। বিতর্কের মঞ্চে, খেলাধুলার আয়োজনে, রক্তদান কর্মসূচিতে, নাটকের মঞ্চে—সবখানেই তাকে পাওয়া যেত। কখনো আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সপ্তাহ আয়োজন করছে, কখনো ছায়া জাতিসংঘ অধিবেশনের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্মে সংগঠক হিসেবে কাজ করছে। পত্রিকায় কলাম লেখার শৈলী, টিভি টকশোতে তার যুক্তি, বাচনভঙ্গি ও লেখনীর নৈপুণ্যসহ প্রতিটি কাজেই ছিল তার আন্তরিকতা, মেধা, সৃজনশীলতা এবং সংগঠক হিসেবে দক্ষতার ছাপ।”

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়ে তিনি তার মেধা-ইতিবাচকতা দিয়ে সৃজনশীল পদচারণা অব্যহত রেখেছেন । বর্তমান কমিটির মেয়াদকালেই মাত্র দেড় বছরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে তিনি সাংগঠনিক কাঠামোতে চারটি পৃথক প্রকাশনা সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন “দল-দীপশিখা” প্রকাশ করেছেন, যেটির নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রিন্স। এছাড়া ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমির বইমেলায় নিজস্ব প্রকাশনী দল-দীপশিখা’ নামে স্টল দেয় যেটির সাংগঠনিক নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রিন্স সফলতার সাথে উপস্থাপন ও পরিচালনা করেছেন। একইসাথে ২০২৫ সালে বাংলা একাডেমি বইমেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের সংস্কৃতি চর্চার একটি পূর্ণাঙ্গ স্লট সফলভাবে উপস্থাপন করেন যেটিরও অন্যতম প্রধান আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স।

উল্লেখ্য যে, নিকট অতীতে ছাত্রদলের কোন ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ছিলো বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, আর তাই ছাত্রদলের ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন দল-দীপশিখা’ প্রকাশনার এই উদ্যোগ সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে এবং এটি ছাত্রদলের ইতিবাচক ও বুদ্ধিদীপ্ত-সৃজনশীল রাজনৈতিক চর্চায় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও ছাত্রনেতা প্রিন্স সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। শিশু-কিশোরদের মাঝে বৈশাখি উপহার প্রদান, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সহায়তা প্রদান, অসহায় দুস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, অসহায় শীতার্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম, পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ গ্রহণ, ইতিবাচক ও সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করাসহ শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে উৎপাদনমুখি শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, দেশগড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় একজন পরিশ্রমী ও মেধাবী ছাত্রদলনেতা হিসেবে ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলনে দল প্রদত্ত বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং সংগঠক হিসেবে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ও রাজপথে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচি প্রনয়ণ-বাস্তবায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ছাত্রদলের রিসার্চ সেল, ছাত্রনেতা প্রিন্স রিসার্চ সেলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবেও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রিন্সকে সংগঠন থেকে যে দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে, তা সততা-দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন। মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স-এর মেধা, সাহস, যোগ্যতা, প্রত্যয়, কর্মদক্ষতা, ইতিবাচকতা ও নেতৃত্ব আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষার্থীবান্ধব এবং দেশপ্রেমিক ছাত্ররাজনীতি চর্চায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলেও মনে করেন তারা।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital