দেশের প্রতিরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য নিরাপত্তায় মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিজস্ব স্যাটেলাইট কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্পারসো পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্পারসোতে পৌঁছালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং স্পারসোর চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন।
এ সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার সাথে স্পেস এবং রিমোট সেন্সিং-এর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।” মহাকাশ গবেষণা এবং রিমোট সেন্সিং (দূর অনুধাবন) প্রযুক্তিকে কীভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তায় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে জোর দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
আরও পড়ুন :হামে শিশুমৃত্যুর দায়ে ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আবেদন
তিনি মহাকাশে বাংলাদেশের তৈরি নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, কৌশলগত মানচিত্র তৈরি এবং ভূ-স্থানিক বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে স্পারসোর ভূমিকা বৃদ্ধি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোর সংগৃহীত স্যাটেলাইট ডেটা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো যাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অপারেশনাল ও গবেষণামূলক কাজে আরও দ্রুত ও সহজে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
একই সঙ্গে স্যাটেলাইট ইমেজ প্রসেসিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রিমোট সেন্সিংয়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি স্পারসোতে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি সক্ষমতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশের দুর্যোগপ্রবণ বাস্তবতা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নে দূর অনুধাবন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও কার্যকর করতে হবে।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফসলের অবস্থা, মাটির আর্দ্রতা, বনাঞ্চল এবং পানিসম্পদ পর্যবেক্ষণ করে সরকারকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহের বিষয়েও তাগিদ দেন তিনি। পাশাপাশি স্পারসোর ডেটাবেইস ও তথ্যভান্ডার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে স্পারসোর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, স্বনির্ভর এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নে প্রত্যক্ষ অবদান রাখতে সক্ষম মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।