জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চিত্রনাট্য রচনা ও গল্প বলার ধরণ এবং চলচ্চিত্রসহ গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতকরণে জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গঠন’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জরুরি কাজে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করায় অনলাইনে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালায় যুক্ত হন। তিনি বলেন, “চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ গঠন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী উপকরণ। তাই এ খাতে নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট শিক্ষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেল। তিনি বলেন, “একটি শক্তিশালী ও সুগঠিত চিত্রনাট্যই একটি চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি। এটি দর্শকের সামনে নতুন অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও বাস্তবতার প্রতিফলন তুলে ধরতে সক্ষম।”
পাশাপাশি বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহ ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর এবং স্ক্রিপ্ট রাইটার ও নির্মাতা মেজবাহ উদ্দিন সুমন। এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন। সূচনা বক্তব্য রাখেন বিসিটিআই-এর উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মোকছেদ হোসেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জিল্লুর রহমান পল।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গবেষক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এ সময় দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা, ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এবং নৈতিক গণমাধ্যম চর্চা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।